টয়া

টয়া
লেখক-অমি রেজা।
২৬-০৪-২০২১
————————–
টয়া,ওওওও টয়া।
কি, এত করে ডাকছ কেন। আমি কি তোমার বিয়া করা বউ?
হিমম।
ইশ্ রে। বুড়া বেটার শখ কত?
আমাকে বুড়া বললা তুমি।
হিমম। আমি পড়ি ক্লাস এইট এ,আর তুমি মাস্টার্স দিবা।
সেটাইতো ভালো। আমি তাড়াতাড়ি ইনকাম করা শুরু করব। তুমি যখন শাড়ী,চুরি,গয়না চাইবে, আমি তোমাকে কিনে দিতে পারব।
ইশশ! তোমার জিনিষ নিতে আমার বইয়ে গেছে।
ওওও টয়া, এত রেগে আছ কেন? বলবে তো,প্লিজ।
কেন,কালকের স্ট্যাটাস (ফেসবুক) এর কথা মনে নেই,ঐ যে শ্রদ্ধা কাপুরের ছবি দিয়ে লিখেছ,তোমার প্রথম ক্রাশ।
হা-হা-হা। তুমি সেই কারনে রেগে আছ।
আমি তো এমনি এমনি লিখেছি,বিশ্বাস কর তুমি ই আমার প্রথম ক্রাশ।
থাক,আমাকে আর বোকা বানাতে হবে না।
এই আমি কানে ধরছি,আর কখনো অমন স্ট্যাটাস দিব না।
সত্যি বলছ।
সত্যি,সত্যি,সত্যি।
হি-হি-হি-
হাসছে টয়া,তা দেখে অমি র মনের মেঘ কেটে গেল।
তারা চ্যাট করছিল ম্যাসেন্জার এ।

টয়া কে ভালো লাগা,ভালোবাসা এসব নিয়ে প্রথম দিকে অমি খুব কনফিউজড ছিল। তার বন্ধুরা অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছে। কিন্ত অমি কারো কথাই শুনেনি।
সত্যি বলতে,ভালেবাসা কি পাটিগনিত,যে যোগ-বিয়োগের হিসাব অনুযায়ী হবে।
ভালোবাসা হল বুকের পাঁজরের লাল হৃদপিন্ডে বহু যতনে লালন করা দুটি মনের বসবাস। টয়ার সাথে তার বয়সের পার্থক্য অনেক। সে অনেক ভেবে চিন্তে ই আগুনে ঝাঁপ দিয়েছে। হয়তো বাঁচবে না হয় আগুনে পুড়ে মরবে।

টয়া র অনেক ছেলেমানুষী ব্যাপার অমি’কে মেনে নিতে হয়।
টয়া কে প্রথম দেখে সে মুনিয়া দের বাড়ীতে। মুনিয়া তার কাজিন। আর টয়া হচ্ছে মুনিয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড। মুনিয়ার কাছে ফোন নম্বর চাইতেই,
মুনিয়া বেশ অবাক হয়। বলে,ভাইয়া ওওও তোমাকে পাত্তা দিবে না।
দে,না,লক্ষী বোন আমার।
আমাকে দেখে হয়ত মুনিয়ার মায়া হয়েছিল।
সে ফোন নম্বর দিল,আর বলল,পুওর বয়। ভুলেও আমার কথা বল না।
ওকে। থ্যাংক ইউ সিস।
এরপর,অনেক ট্রাই করার পর দুজনার আজকের এ অবস্থানে আসা।

ম্যাসেঞ্জারে ঘটাং শব্দে অমি’র ভাবনায় ছেদ পড়ল।
অমি,
বল।
কি করছিলে।
ভাবছিলাম।
কি ভাবছ সাহেব।
আচ্ছা টয়া,আমি বুড়া বলে তোমার খুব মন খারাপ হয়,তাই না।
হি-হি-হি।
হাসছ যে?
হাসতে মানা নাকি।
উত্তর দিলে না।
সময় হলে পাবে। এই আব্বু, ডাকছে আমাকে। এদিকেই আসছে। রাখি,বাই।
আবার কখন কথা হবে।
জানিনা,বাই।
ম্যাসেঞ্জারের সবুজ বাতিতা বন্ধ হয়ে গেল।

টয়া খুব সুন্দর করে সেজেছে আজ। আম্মুর শাড়ী পড়েছে। সোনালী রঙের জামদানী। টানা-টানা দুই চোখে কাজল পড়েছে। পায়ে দিয়েছে আলতা। এতে ফর্সা পা দুটো দেখলে মনে হয় রক্ত জমে আছে। হাতে পড়েছে টকটকে লাল রঙের কাঁচের চূড়ি। হাল্কা করে লিপস্টিক দিয়েছে।
আম্মু তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
সে খুব লজ্জা পাচ্ছে।
আম্মু এমন করে কি দেখছ।
তোমাকে চেনা যাচ্ছে না টয়া। মনে হচ্ছে,পাশের বাড়ীর কোন মেয়ে বেড়াতে এসেছে। টয়া,দাড়াও একটা টিপ পড়িয়ে দেই।
হিমমম।
যাবে কোথায়?
রাতে না তোমাকে বললাম। আজকে মুনিয়ার জন্মদিন। ওদের বাসায় যাব।
তুমি একা ইনভাইটেড?
না আমাদের আরও কয়েকজন বান্ধবী যাবে। মুনিয়াদের বাসা কোথায়?
সেগুন বাগিচা।
আমি তোমাকে দিয়ে আসব।
না আম্মু বেইলি রোড থেকে সেগুন বাগিচা খুব বেশি দূরে নয়। আমি একাই পারব।
সাবধানে যেও মামনি।
ওকে।

টয়া,ওয়াও। তোকে ত চেনা যাচ্ছে না। কানের কাছে মুখ নিয়ে মুনিয়া বলল ভাবি আমার ভাবি।
যাহ্‌ শয়তান। টয়া একদম লজ্জায় লাল হয়ে গেল। বাকি বান্ধবীরা সবাই সমস্বরে হাসতে লাগল।
নাদিয়া বলে উঠল,লিঙ্গে ভুল করলি টয়া। ও শয়তান না ও হবে শয়তানী।
হা হা করে সবাই আরেক পশলা হেসে উঠল।
মুনিয়া এবার সবাইকে শান্ত হতে বলল।
টয়া যেন স্বস্তি র নিঃশ্বাস ফেলল।
তার চোখ যেন মুনিয়াদের বাড়ীর চারিদিকে কাউকে ব্যাকুল হয়ে খুঁজতে লাগল। মুনিয়ার সাথে চোখে চোখ পড়তেই, আরেকবার লজ্জা পেল।
মুনিয়া তার মুখটাকে দুঃখি দুঃখি করে বলল। মনে হয় আসবেনা। লাস্ট সেমিস্টার চলছে। কি একটা এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। আমাকে বলল আসার চান্স কম।
কেউ যেন টয়া র মুখের হাসি কেড়ে নিল। মুখটা কেমন ম্লান হয়ে গেল তার। বুকের ভেতরটা কেমন যেন করতে লাগল। আশাহত হলে মানুষের মনের অবস্থা যেমন হয়। তার খুব খারাপ লাগছে অমি’র জন্য। সবকিছু কেমন অসহ্য মনে হচ্ছে।
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে এল। পার্টি চলছে। সবাই হাসি,খুশি,আনন্দে মত্ত।
টয়া র খুব মাথা ধরেছে। মুনিয়া তাকে তার বেড রুমে রেখে গেছে। রেস্ট নেওয়ার জন্য। পার্টি শেষ হলে,ওদের গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসবে।
হঠাৎ ইলেকট্রিসিটি চলে গেল। টয়া ভয় পেয়ে ওঠে বসল। বারান্দাটার দিকে চোখ যেতেই ভয় টা কেটে গেল। ভরা পূর্নিমার চাঁদের আলোতে ভরে গেছে পুরো বারান্দা আর রুমটার অর্ধেক।
একি,একটা মানুষের অবয়ব দেখা যায়?
কে? কে ওখানে? বলেই টয়া খাট থেকে ওঠে দাড়ায়। মানুষটা ঘুরে দাড়ায় তার মুখোমুখি।
অমি তুমি,টয়া একটা লাফ দিয়ে আছড়ে পড়ে অমি,র বুকে। সেও তাকে গভীর আবেগে জড়িয়ে ধরে।
দুজনে ই চুপচাপ। সময় বয়ে যায়।
অমি তার খোলা চুলের মাঝে নাক ডুবিয়ে দেয়,
আহ্ কি মিষ্টি গন্ধ।
টয়া তাকে আরও জোরে আকড়ে ধরে।
ভয় পেয়েছ টয়া?
হিমম।
কেন? এই যে আমি আছি তোমার পাশে।
আমার পাশে সারাজীবন থাকবে।
হিমম। যতদিন আমার নিঃশ্বাস বইবে। যতদিন আমার হৃদপিন্ড সচল থাকবে। যতদিন আমার প্রান থাকবে। ঠিক ততদিন আমি তোমার পাশে থাকতে চাই।
সত্যি।
হিমম। তিন সত্যি।
আচ্ছা টয়া,তোমার বাবা-মা যদি আমাদের সম্পর্ক টা কে মেনে না নেয়। তখন তুমি কি করবে।
জানিনা। হয়ত আমি মরে যাব।
তা কেন হবে,তুমি বেচেঁ থেক।
আমি মরে যাব।
টয়া অমির মুখ চেপে ধরে। বলে –
মরার কথা কখনও মুখে আনবে না।সময় হলে দেখা যাবে।
টয়া আমার টয়া,তোমাকে আজ অনেক বড় বড় লাগছে।
হিমম। বুড়া র সাথে প্রেম করে আমি নিজেও বুড়ি হয়ে গেলাম।
অমি রেজা।

অমি রেজা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top