বউ – মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ || রম্যরচনা – প্রেমিকা কি চায় স্ত্রী কি চায়? – শম্পা সাহা

mdshohidullah

১)
এলাকায় বিদেশি বউ এনেছেন রাশেদ ভাই।বিদেইশ্যা, পেত্নী,খিসটান—আরো কত বিশেষণ জুটলো।রাশেদ দম্পতি যেখানেই যান একপাল শিশু তার পেছনে লাগে।কৌতূহলের পাল উড়িয়ে তীব্রভাবে ছুটে যায় নৌকো।
তাকে দেখতেই ক্লাস ওয়ানের ছাত্র নাবিলের সারাদিন গ্যালো।সে একটু ভয়ে ভয়েই দূর থেকে দম্পতিকে অনুসরন করে।বিদেশি বউটার উচ্চতা ছয়ফুটের মতো।সে তুলনায় রাশেদ ভাই আধা ফুট কম।ভদ্র মহিলার স্লিম,হালকা গোলাপি ফিগার,মাথায় পাটের মতো চুল,আর নীল মার্বেলের মতো চোখে পিটপিট করে তাকায়,আর হিসেব করে হাসে।অন্যান্য শিশুর মতে নাবিলের ভেতরে প্রশ্নের পেছনে প্রশ্নের ঢেউ কেবল ধাক্কা মারে—-উনি এতো কম শব্দে কথা বলে কেন?রাগ নেই কেন?কম খায় কেন?নিজের কাজ নিজে করে কেন?
উত্তর পেতে মাকে ব্যস্ত রাখে।মা কেবল সংক্ষেপে সারেন—কী—- জানি বাপু।
একবার খুব কাছে চলে গিয়েছিলো নাবিল বিদেশিনীর গায়ে আলতো করে ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছে।
মহিলা টের পেয়ে জিগ্যেস করে –আমাকে ধরতে চাও?
নাবিল লজ্জা পেয়ে পিছিয়ে বলে—না!
মহিলা ওকে কাছে টেনে নিয়ে আদর করে দিলেন।
তারপর কোনমতে নিজেকে ছাড়িয়ে নাবিল ভোঁ–দৌড়।
বাড়িতে গিয়ে মাকে জাপটে ধরে,হাঁপাতে হাঁপাতে ঘটনাটা বলে।মা তার হাসি চেপে বলেন—এতে ভয়ের কী আছে?
জানো মা, উনি না আমাদের মতোই মানুষ।আমি ভাবছিলাম কিই না কি—উনার হাত পা,মুখ,মাথা,চুল,শরীর আমাদের মতোই।খালি কিভাবে যেন কথা বলছিলেন।
আবারো মা হাসলেন।
মা বললেন,পৃথিবীতে সবাই মানুষ হিসেবে এসেছি।ভাষা,খাদ্য,পোশাক আসাকে,সামাজিক রীতি-নীতিতে কেবল একটু পার্থক্য আছে।
২)
নাবিল বড় হলো।অনেক বড়।তার অফিস নগরের পনের তলার বিল্ডিং টাতে।ওখানে বসলে নীচে মানুষ,গাড়িগুলোকে পিঁপড়ের রাজ্য বলে মনে হয়।
সে নিজেও এবার একটা বিদেশি বউ আনলো।তবে তার পেছনে ছোট্ট বেলাকার সেই কৌতূহলী শিশুর মিছিল নেই।
বউকে নিয়ে একদিন নিজের গ্রামেও গেলো।গ্রামটাও প্রায় শহর হয়ে পড়েছে।ওর বৌটার দিকে কৌতূহলী কারো নজর তেমন একটা নেই।তার রেখে যাওয়া গ্রামীন বউ নুরেজার চোখ থেকে কষ্টের হল গড়ায়।তার ছেলেটা মাত্র স্কুল ডিঙ্গিয়েছে সেও নিঃশব্দে ঘরে ঢুকলো।
আপ্যায়নের ত্রুটি হলোনা।মুরুব্বিরা এক পর্যায়ে মেনে নিলেন।
অফিস থেকে প্রায়ই বিদেশ দৌড়াতে হয়।বিদেশী বউটাও সাথে সাথে থাকে।

৩)
নাবিল পাঁচ বছর পর দেশে এসেছে।গ্রামের বাড়িতে নুরেজা ও তার ছেলে ওকে সাদরে বাড়িতে ঢুকালো। সাথে নেই বিদেশি বউ।বউ নাকি নতুন কারো সাথে সংসার শুরু করেছে। নাবিলেরও শরীরে আজ রোগের কারখানা। পড়ো পড়ো, ক্লান্ত, কালশিটে পড়া চোখ দেখে আঁতকে ওঠা সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নুরেজা পরম মমতায় নাবিলকে আঁকড়ে ধরে ঘরে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়। ছেলেটা ডা্ক্তার আনতে বাইক নিয়ে বেড়িয়ে গেলো।

shampa saha

রম্যরচনা – প্রেমিকা কি চায় স্ত্রী কি চায়? – শম্পা সাহা

কেউ ভাবে মেয়েরা টাকা চায়, ভালো শাড়ি, গয়না, ঘুরতে যাওয়া। এর পেছনে তাদের যথেষ্ট যুক্তি ও আছে। কারণ বৌ প্রায়ই আক্ষেপ করে, “ওরা ওখানে গেলো, ওই দাদা ওই বৌদিকে এই শাড়ি কিনে দিয়েছে!”

কেউ ভাবে মেয়েরা শরীর চায়, যদিও সংখ্যা টা নেহাত কম, তবু। কেন? কারণ বৌ আজকাল প্রায়ই বায়না করে, “তুমি আজকাল আর কাছে আসো না, আগের মতো!” আরে মেয়েরা কি বোঝে সারাদিন কি খানিকটা খাটতে হয়?

কেউ ভাবে প্রেমিকা গিফ্ট চায়। এই তো গত পূজোতে দামি পারফিউম দিলাম, ঘড়ি দিলাম, লিপস্টিক, মেকাপ সেট! বাপের পকেট ঝেড়ে আর কত? শা.. তাও খুশি হয় না, ঘ্যান ঘ্যান করতেই থাকে,” ভালো বাসো না, তুমি আমায়”।

কেউ ভাবে প্রেমিকা, বৌ অধিকার চায়, তাই তো দেরি করলে ঝামেলা, ফোন না ধরলে অশান্তি, কারো সাথে কথা বললে সন্দেহ!

আবার কেউ কেউ ভাবে মেয়েরা স্বামী বাদে, নিজের প্রেমিক বাদে আরো আরো পুরুষ চায়, তাই তো, “আমায় বাদ দিয়ে অন্য ছেলের সঙ্গে কথা বলে, হাসে, প্রেম করে। “

আবার কেউ ভাবে মেয়েরা ঠকাতে চায়,” তাই তো আমাকে ছেড়ে গেল, তাই তো দ্বিতীয় বিয়ে, তাই তো ডিভোর্স! “

আসলে বোধহয় মনের নাগাল চায়, না পেয়ে টালমাটাল, ইনসিকিউরিটি, ভয় না জানি আর কি কি? আসলে মানুষ কি জানে সে কি চায়? না অন্য কেউ জানতে চায়?

পারলে একটু সময় দিন, একটু ভরসা যোগান, দেওয়া কথা গুলো রাখার চেষ্টা করুন, মন রাখতে এমন কথা দেবেন না যা রাখতে পারবেন না!আর অভিমান গুলো বলার আগে বুঝতে চেষ্টা করুন,না না কঠিন নয়,একটু মনযোগ থাকলে সহজেই বুঝতে পারবেন।ভালো থাকুন, ভালো বেসে ভালোবাসায় থাকুন!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top