আমার কৈফিয়ৎ – সুব্রত মজুমদার

Subrata Majumdar
লেখা শুরু করেছি সেই ছোটবেলা হতেই। তবে সেই লেখার মধ্যে যতটা কল্পনা ছিল তারচেয়ে বেশি ছিল ছন্দহীনতা ও অগভীরতা। তাই প্রচেষ্টা থাকলেও সেগুলোকে কবিতা বলা যায় না বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

এরপর দ্বারকার খাত দিয়ে বহু জল পার হয়েছে, আমিও স্কুল ছেড়ে ভর্তি হয়েছি কলেজে। ট্রেনিং কলেজে থাকার সময় এই লেখালেখি একটা আলাদা জায়গা পায়। সে সময় অনেক বাহবাও পেয়েছিলাম। তবে কোনও পত্রপত্রিকা বা ম্যাগাজিনে লেখার সৌভাগ্য হয়নি তখনও।

সোসাল মিডিয়ায় আমার প্রথম কবিতা প্রকাশিকা হয় ‘স্টোরি অ্যান্ড আর্টিকেল’ পেজে। এই ‘স্টোরি অ্যান্ড আর্টিকেল’ এর সম্পাদক মহাশয়ের উৎসাহেই কবিতার সাথে সাথে ছোটোখাটো রম্যরচনা জাতীয় কিছু লেখার চেষ্টা করি।
এরপর একে একে ‘গোয়েন্দা বিক্রম’, ‘তান্ত্রিক বগলাচরণ ভট্টাচার্য্য’, ‘প্রফেসর লোমহর্ষণ’, ‘অঘোরবাবু’ ও ‘কিটকিট’ এর মতো চরিত্ররা আমার কলমে জীবন্ত হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বেশি সাফল্য পায় ‘বগলা ভটচাযের গল্প’। পোথি পাবলিকেশন হতে ‘বগলা ভটচাযের গল্প’, ‘বগলা উবাচ’ প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড, বিক্রম কাহিনী’ শয়তানের থাবা’ প্রকাশিত হয়েছে। অনলাইনে উপলব্ধ।

আমার লেখার পটভূমি মূলত প্রকৃতি। অরণ্য, পাহাড়, গ্রাম, আর গ্রামের সরল মানুষ। অলীকপুরের লোককথা, আজবপুরের আজববৃত্তান্তের মতো অদ্ভুততুড়ে হাসির গল্পের পটভূমিও সেই গ্রাম। আমার রোমান্টিক উপন্যাস ‘জলতরঙ্গ’ সেই গ্রামের পটভূমিতেই লেখা।

বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ম্যাগাজিন ও সোসাল মিডিয়ায় নিয়মিত লেখার জন্য যে পাঠকমণ্ডলী তৈরি হয়েছে তারা নিয়মিত মেইল ও ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ রাখেন। অনেকের সাথে ব্যক্তিগতভাবেও পরিচয় হয়েছে। তাদের কৌতুহলের কিছুটা উপশম করব বলেই আজ কলম ধরেছি।
কৌতুহল ১ : বগলাচরণ ভট্টাচার্য্য কি বাস্তবে আছেন ?

উত্তর : হ্যাঁ। তবে গল্পগুলো পুরোটাই তার জীবনের উপর আধারিত নয়। বিভিন্ন লোককথা, পুরাণ, ইতিহাস বিজ্ঞান ও কল্পনা যুক্ত হয়েছে এর সঙ্গে।
কৌতুহল ২ : লেখেন কখন ?
উত্তর : প্রথাগত লেখকদের মতো লেখার বাঁধাধরা সময় আমার নেই। সংসার সামলে, চাকরি সামলে, যেটুকু সময় পাই লিখি। তবে নিরুপদ্রবে নয়।
কৌতুহল ৩ : লিখতে গিয়ে কারোর সাহায্য পেয়েছেন ? কোনও প্রকাশনা ?

উত্তর : না। পাবলিশাররা ব্যবসা করেন। আমার লেখা ছেপে রিস্ক নেওয়ার মতো বোকা তারা নন।
কৌতুহল ৪ : অবসর সময়ে কি করেন ?
উত্তর : লিখি, গানশুনি আর টিভি দেখি।
কৌতুহল ৫ : নস্টালজিক উপন্যাস ?

উত্তর : ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের ‘মহুয়া বড় মিষ্টি’। ক্লাস থ্রি তে পড়েছিলাম।
কৌতুহল ৬ : গল্পের প্লট কি ভাবতে হয় ?
উত্তর : না। কোনও লেখা শেষ হওয়ার আগে পরিণতি কি হবে আমিই বলতে পারি না। গল্প নিজের গতিতেই চলে।
কৌতুহল ৭ : পাঠক ম্যাসেজ ( message ) করলে বিরক্ত হন ?
উত্তর : না। পাঠকরা সবসময় স্বাগতম। এমনকি সমালচকও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top